হে যুবক তুমি সাবধান হও

হে যুবক!
“তুমি সাবধান হও।

তোমার অবসর সময়, যৌবন, অর্থ উপার্জন ও ব্যয়, ইলম অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে।
তুমি জেনে রেখো এসব বিষয়ে তুমি কিয়ামতে জিজ্ঞাসিত হবে যার উত্তর দেয়া ব্যতীত এক পাও নাড়াতে পারবে না।
.
আবার জিজ্ঞেস করি,
এগুলো তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কাজে লাগাচ্ছো তো?
.
একটা সময় যখন তুমি দ্বীন বুঝেছিলে
তখন তোমার যে অগ্রগামিতা ছিল তা কি
স্তিমিত হয়ে গেছে?
.
তুমি কি গাফিলতি,অলসতা, অধিকাংশ সময় তোমার নিজেকে নিয়ে কিংবা এই দুনিয়া ও চাকরি, ব্যবসা বা এই জাতীয় কিছুর পিছে ছুটছ?
.
তুমি প্রত্যহ কিছু সময় কুরআন বুঝা ও
চিন্তা- গবেষনার কাজে ব্যয় কর,
যা তোমার জন্য রহমত, হিদয়াত এবং অন্তর
রোগের ঔষধ হবে।
.
ওহে কু প্রবৃত্তির অনুসরন থেকে সাবধান
হও,তোমার মন যা চায় তা করো না,
আল্লাহ যা চান তা করো।
.
তোমার অবসর সময়কে যথাযথ কাজে লাগাও।
.
আল্লাহকে ভয় কর!
আল্লাহকে ভয় কর!!
আল্লাহকে ভয় কর!!!
.
ওহে মুসলিম,
তোমাকে আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে,
তোমার হিসাব নেয়ার জন্য আল্লাহই
যথেষ্ট, যিনি সব জানেন তুমি যা গোপন
কর ও প্রকাশ কর।
.
তোমাকে অবশ্যই মৃত্যুবরন করতে হবে।
.
যখন তুমি দুনিয়ার সব সব ছেড়ে চলে যাবে শুধু তুমি আখিরাতের জন্য যা সঞ্চয় করেছ তা নিয়ে, সাবধান হও তোমার শেষ আমলের ব্যাপারে, তুমি জাননা কখন তোমার শেষ মুহুর্ত।
.
তুমি কি প্রস্ত্তত মৃত্যুর জন্য?
.
তুমি কি প্রস্ত্তত কবরের সাওয়াল-জাওয়াবের জন্য?
.
তুমি কি প্রস্ত্তত ভয়াবহ কিয়ামতের জন্য?
.
হাশরের ময়দানের জন্য?
.
হিসাব নিকাশের জন্য?
.
আল্লাহকে জবাব দেয়ার জন্য?
.
মিযানের জন্য?
.
তুমি কি প্রস্ত্তত চুলের চাইতে সুক্ষ-তরবারীর চাইতে ধারালো পুলসিরাত কে পারি দেয়ার জন্য?
.
তুমি ভয়ংকর জাহান্নামের আগুন থেকে
আত্মরক্ষার জন্য কাজ করছ তো?
.
যার ইন্ধন মানুষ এবং পাথর, যার আগুন ভয়ংকর উত্তাপ সম্পন্ন কালো বর্নের,
যা হৃদয় পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেবে।
.
এমন উত্তপ্ত পানি যা নাড়ি-ভুড়িকে বের করে দিবে।
.
রয়েছে খাবার হিসেবে জাক্কুম ও গলিত পুঁজ,
জাহান্নাম অসম্ভব গভীর, ভয়াল জায়গা,
কঠোর হৃদয় ফিরিশতারা নিযুক্ত,
যেখানে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধির জন্য শরীরকে অনেক বড় করে দেয়া হবে,
চামড়াগুলো জ্বলে যাবে,
বের হতে চাইবে বের হতে পারবে না,
মৃতুকে ডাকবে মৃত্যু আসবে না,
ভয়ংকর শাস্তি যা অনন্তকাল ব্যাপী চলতে থাকবে।
.
তুমি অগ্রগামী হও সেই চিরস্থায়ী জান্নাতের দিকে যেখানে রয়েছে চিরন্তন সুখ,
যা মন চাইবে তাই পাবে,
যা আদেশ করবে তাই দেয়া হবে।
.
জেনে রেখো দুনিয়া চাওয়া পাওয়ার পূর্নতার
স্থান নয়,
জান্নাতই হচ্ছে এমন জায়গা যা তোমার সব আকাঙ্খাকে পূর্ন করবে।
.
চির কিশোর সেবকগন,
চির যৌবনা সঙ্গিনিগন,
ফলমুল,গোশত,
দুধের-মধুর-শরাবের নহর,
উত্তম বাসস্থান ও বিছানা,
চির আরাম,
চির যৌবন,
চির সুখ।
.
অসংখ্য নেয়ামতের মাঝে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে তুমি আল্লাহকে দেখবে।
.
শুধু তোমাকে এটা বলাই যথেষ্ট মনে করছি- সবচেয়ে কম মর্যাদার যে জান্নাত লাভ করবে তা হবে দুনিয়ার দশটির সমান!!!
.
সুতরাং হে মুসলিম, আল্লাহ তোমার
প্রতি রহম করুন, এই বার্তা তোমার কাছে
পৌছার পর আশা করি তা তোমার
পরিবর্তন এবং সংশোধনে যথেষ্ট হবে।
.
গতানুগতিক চিঠি হিসেবে নিও না যা
পড়ে ফেলে দেয়া হয়-আল্লাহর জন্য বলছি
এর দ্বারা নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা
কর।
.
আর তোমার অবস্থা যদি উত্তম হয় এর
চেয়ে যা উল্লেখ করলাম-আল্লাহর কাছে
কামনা করি তোমাকে তিনি দৃঢ় রাখুন-
মাওত পর্যন্ত লেগে থাকো উত্তম ঈমান
সহ।
.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যার নিয়ামতে
ভাল কাজ সংঘটিত হয়ে থাকে। সলাত
এবং সালাম নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি
ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার-
পরিজনের উপর।

(আমার একজন প্রিয় শাইখের পক্ষ হতে আমাদের জন্য নাসিহা)

>>>সৌজন্যেঃ-Gazi Umar Faruk<<<

Share this Post
Scroll to Top