সাওমের কাযা যিম্মায় রেখে যে ব্যক্তি মারা গেল তার বিধান

সাওমের কাযা যিম্মায় রেখে যে ব্যক্তি মারা গেল তার বিধান
==================================================================

হাসান রহ. বলেছেন, তার পক্ষ থেকে ত্রিশজন লোক একদিন সাওম পালন করলে হবে।

‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ»

“সাওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবকের পক্ষ থেকে সাওম আদায় করবে।”

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪৭।

ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ، أَفَأَقْضِيهِ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَدَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى، قَالَ سُلَيْمَانُ: فَقَالَ الحَكَمُ، وَسَلَمَةُ، وَنَحْنُ جَمِيعًا جُلُوسٌ حِينَ حَدَّثَ مُسْلِمٌ بِهَذَا الحَدِيثِ قَالاَ: سَمِعْنَا مُجَاهِدًا، يَذْكُرُ هَذَا، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الحَكَمِ، وَمُسْلِمٍ البَطِينِ، وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَطَاءٍ، وَمُجَاهِدٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَتِ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ، وَقَالَ يَحْيَى، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَتِ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ، وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَتِ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرٍ، وَقَالَ أَبُو حَرِيزٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَتِ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَاتَتْ أُمِّي وَعَلَيْهَا صَوْمُ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا»

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা এক মাসের সাওম জিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে সাওম কাযা করতে পারি? তিনি বলেন: হ্যাঁ, আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই হলো অধিক যোগ্য। সুলায়মান রহ. বলেন, হাকাম এবং সালামা রহ. বলেছেন, মুসলিম রহ. এ হাদীস বর্ণনা করার সময় আমরা সকলেই এক সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তাঁরা উভয়েই বলেছেন যে, ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মুজাহিদ রহ.-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে আমরা শুনেছি। আবু খালিদ আহমার রহ. ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলল, আমার বোন মারা গেছে। ইয়াহইয়া রহ. ও আবু ম‘আবিয়া ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার মা মারা গেছেন। ‘উবায়দুল্লাহ রহ. ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার মা মারা গেছেন অথচ তার যিম্মায় মানতের সাওম রয়েছে। আবু হারীয রহ. ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমার মা মারা গেছেন অথচ তার যিম্মায় পনেরো দিনের সাওম রয়ে গেছে।”

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৩।

আব্দুল্লাহ ইবন বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,

«بَيْنَا أَنَا جَالِسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ، فَقَالَتْ: إِنِّي تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِجَارِيَةٍ، وَإِنَّهَا مَاتَتْ، قَالَ: فَقَالَ: «وَجَبَ أَجْرُكِ، وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاثُ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهُ كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ، أَفَأَصُومُ عَنْهَا؟ قَالَ: «صُومِي عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ، أَفَأَحُجُّ عَنْهَا؟ قَالَ: حُجِّي عَنْهَا»

“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় জনৈকা মহিলা এসে বললেন! আমি আমার মায়ের জন্য একটি দাসী সদকা করেছিলাম। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। একথা শুনে তিনি বললেন, তুমি তো তোমার সওয়াব পেয়ে গিয়েছ। তবে উত্তরাধিকার তোমার নিকট তা ফিরিয়ে দিয়েছে। তখন ঐ মহিলা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তার ওপর এক মাসের সাওমের কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ থেকে ঐ সাওম আদায় করতে পারি কি? তিনি বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে সাওম পালন কর। অতঃপর মহিলা বললেন, তিনি তো তখনও হজও আদায় করেন নি আমি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারি কি? তিনি বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় কর”।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪৯।

Share this Post
Scroll to Top