শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত ও নিয়ম

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর মুক্তাদাস সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোযা রাখলো, তা পূর্ণ বছর রোযা রাখার সমতুল্য। ‘‘কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে’’ (সূরা আন‘আমঃ ১৬০)।

ইবনে মাজাহ ১৭১৫ আহমাদ ২১৯০৬, দারেমী ১৭৫৫, ইরওয়াহ ৪/১০৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ
__________________
░ ফজিলত – মর্যাদা ░

আবূ আইয়ূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা পালনের পর শওয়াল মাসের ছয়দিন রোযা রাখল, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।” (মুসলিম)[1]

[1] মুসলিম ১১৬৪, তিরমিযী ৭৫৯, আবূ দাউদ ২৪৩৩, ইবনু মাজাহ ১৭১৬, রিয়াযুস স্বা-লিহীন ১২৬২ আহমাদ ২৩০২২, ২৩০৪৪, দারেমী ১৭৫৪ হাদিসের মানঃ সহিহ।

• আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখবে, তা যেন সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।

মুসলিম ১১৬৪, তিরমিযী ৭৫৯, আবূ দাউদ ২৪৩৩, ইবনে মাজাহ ১৭১৬ আহমাদ ২৩০২২, ২৩০, ইরওয়াহ ৯৫০, দারেমী ১৭৫৪, বায়হাকী ৪/৩০২, সহীহ আবী দাউদ ২১০২, তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সা’দ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি বলেন, তার হিফযের পূর্বে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু’আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২২০৮, ১০/১৬২ নং পৃষ্ঠা) হাদিসের মানঃ হাসান
||••••••••••••••••••••||•••••••••••••••••••||
ইমাম আন নাসাঈ তার ‘সুবুল উস সালাম’ গ্রন্থে বলেছেন, যদি রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হয়, তাহলে মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬টি। শরিয়ত অনুযায়ী প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাহলে ৩৬টি রোজা ১০ গুণ পুরস্কারে পরিণত করলে তা ৩৬০টি রোজার সমতুল্য হবে। অর্থাৎ সারা বছরের রোজার সমতুল্য হবে। কোনো কোনো আলেম বলেন, রমজানের শেষে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতেই হবে, এমন কথা নেই!। আবার কেউ কেউ মনে করেন, শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা একনাগাড়ে রাখতে হবে এমন কথাও নেই।
░ শাওয়ালের রোজা রাখার নিয়ম ░ মাসের শুরুতে মধ্যে বা শেষে যে কোনো সময় আদায় করতে পারবে। রোজা ছয়টি ধারাবাহিকভাবে বা মাঝে মাঝে ফাঁকা রেখেও আদায় করতে পারবে। নারীরা পিরিয়ডের কারণে কাজা হওয়া রমজানের রোজা আলাদাভাবে আদায় করতে হবে। শাওয়ালের ছয় রোজার সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ত করতে পারবে না। বরং আগে কাজা শেষ করবে, পরে শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করবে।
——————————————————
• Present by – Bayzid Bin Osman

Share this Post
Scroll to Top