আরশের ছায়া এবং রাসুল (সাঃ)- এর শাফায়াত পাওয়ার উপায়

আরশের ছায়া এবং রাসুল (সাঃ)- এর শাফায়াত পাওয়ার উপায়ঃ

১.“আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন “যে ব্যাক্তি কোন অভাবী (ধার গ্রহীতা) কে সময় দিবে অথবা অব্যাহতি দিবে, আল্লাহ্‌ তাকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় ছায়া দান করবেন।যেদিন তাঁর ছায়া ব্যাতিত কোন ছায়া থাকবে না”।(সহিহ তীরমিযী-১৩০৬)

২. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন “কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের মাঝে ফয়সালা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক দানবীর তার দান-খয়রাতের ছায়ার নিচে অবস্থান করবে।(সহিহ ইবনে খুজাইমা, তাহকিক আলবানি, সহিহ তারগিব-৮৭২)

দুইভাবে দান করতে পারেন, i)আপনি যে চাকরি বা ব্যবসা বা সৎপথে যেভাবেই উপার্জন করেন তার একটা নির্দিষ্ট Persent দানের জন্য নির্ধারিত করুন হতে পারে আয়ের ৫% বা ১০% বা ২০% ইত্যাদি
ii) অথবা প্রতিদিন কিছু টাঁকা আলাদা করে একটা জায়গায় জমা রাখুন, যখন অনেক টাঁকা হয়ে যাবে তখন সেটা গরিবদুঃখী, মিসকিন, অসহায় বিধবা মহিলা, অনাথ এতিম বা মসজিদে বা মাদ্রাসায় দান করুন এতে আপনি প্রতিদিনের দান করার সওয়াব পাবেন)

৩. আজানের দোয়া বললে তার জন্য রাসুল (সাঃ)-এর সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে-
আযানের সময় করনীয়-

i) মুয়াযযিন যা বলে শ্রোতাও তা বলবে, তবে ‘হাইয়্যা ‘আলাস্সালাহ’ এবং ‘হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ’ এর সময় বলবে,
«لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ»
(লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ)
“আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই ।”
যে এই কাজ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বুখারী, ১/১৫২, নং ৬১১, ৬১৩; মুসলিম, ১/২৮৮, নং ৩৮৩।

ii) মুয়াযযিনের কথার জবাব দেওয়া শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়বে(দরুদে ইব্রাহিম যেটা নামাজের বৈঠকে পড়া হয়)

iii) তারপর বলবে,
«اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ
আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাহ, ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ,
“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।
এতে করে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সুপারিশ তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।(বুখারী ১/২৫২, নং ৬১৪)

এভাবে i) প্রথমে আজানের জবাব, ii) তারপর দরুদে ইব্রাহিম যেটা নামাজের বৈঠকে পড়া হয় সেটা পড়া, তারপর iii) শেষের দোয়াটা পড়লে তাহলে সবগুলো আমল একসাথে করা হয়ে গেলো এবং ভিন্ন ভিন্ন ফজিলত রয়েছে আর কেও চাইলে শুধু আজানের দোয়াটাও অর্থাৎ শেষেরটা বলতে পারে এতে সে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সুপারিশ যেটা রয়েছে সেই ফযিলতটা পাবে।

আল্লাহ তা’লা আমাদের এই সহজ আমল করার মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হওয়ার তাওফিক দান করুন ।

Share this Post
Scroll to Top