আমার অমুক কাজটা হলে এতো টাকা মসজিদে দান করবো, এতো রাকাত নফল সালাত পড়বো, এতোগুলো নফল রোযা রাখবো, এমন মানত করা যাবে?

আমার অমুক কাজটা হলে এতো টাকা মসজিদে দান করবো, এতো রাকাত নফল সালাত পড়বো, এতোগুলো নফল রোযা রাখবো, এমন মানত করা যাবে?
প্রথমতঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে “মানত” করতে নিষেধ করেছেন। অতএব, মানত করা ঠিক নয়। আমরা অনেকে বিপদ-আপদে পড়ে মানত করি, আর মনে করি এটা সওয়াবের কাজ, আল্লাহ খুশী হবেন। কিন্তু আসলে মানত করা কোন সওয়াবের কাজ নয়। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যা করতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, তাতে আল্লাহ খুশী হবেন না। এবং এতে কোনো সওয়াবও হয় না। তাই আমাদের উচিৎ কোনো অবস্থাতেই মানত না করা। অবশ্য মানত করে ফেললে আর সেটা যদি জায়েজ কাজ হয়, তাহলে সেটা তা পালন করতে হবে, মানত পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
(১) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়। [সহীহ মুসলিমঃ ৪৩২৭, মুসনাদে আহমাদ]
(২) আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত তাকদীরের কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু কৃপণ ব্যক্তির কাছে থেকে কিছু সম্পদ খসায়।” [সহিহ বুখারি, মুসলিমঃ ৪৩২৯]
(৩) আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেন নি, মানত সেটি তার নিকটবর্তী করে না। বরং তাক্বদীরে যা আছে, মানত সেটাই নিয়ে আসে। এই (মানতের) মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়, যা সে খরচ করতে চায়নি।” [সহিহ মুসলিমঃ ৪৩৩১]
দ্বিতীয়তঃ মানত করার মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়। এ কথা বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝিয়েছেন, মানত করা একটি অনর্থক কাজ। সাধারণত কৃপণ স্বভাবের লোকেরা মানত করে থাকে। তারা সুস্থ ও নিরাপদ থাকা অবস্থায় দান সদকাহ করে না। কিন্তু বিপদে পড়লে আল্লাহর পথে খরচ বা দান সদকা করার বড় বড় মানত করে।
তৃতীয়তঃ তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই হবেই। মানত করার মাধ্যমে তাকদীরের লেখা পরিবর্তন করা যায় না। তাকদীরের প্রতি যাদের যথাযথ ঈমান নেই, সাধারণত তারাই মানত করে থাকে।
চতুর্থতঃ মানত করা হোক বা না হোক। ফলাফল একই হবে। তাকদীরে যা লেখা আছে সেটাই আসবে অবধারিতভাবে।
পঞ্চমঃ আলোচিত সবগুলো হাদীসই মানত করার জন্য মুসলিমদেরকে নিরোৎসাহিত ও নিষেধ করেছে। বলেছে, এটি কোনো ফল বয়ে আনে না বরং শুধু কৃপণের সম্পদ খরচ করায়। এ সকল বিষয় জানার পর কোনো মুসলিমের পক্ষে কোনো প্রকার মানত করা উচিত নয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে কাজটি করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, আমরা সেটাকে “সুন্নাত” মনে করি।
বিঃদ্রঃ অনেক হুজুর মাওলানা বলে অমুক জায়গায় মানত করলে অমুক কাজটা হয়ে যাবে। এই ব্যক্তি হচ্ছে জাহেল, মূর্খ। এর কোনো কথা শোনা যাবেনা, এর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর অলি আওলিয়ার কবর মাজারের নামে অথবা জিন্দা/মুর্দা পীরের নামে কোনো কিছু মানত করা শিরক। কারণ, এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে অলী আওলিয়াদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকে। আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো ইবাদত করলে সেটা শিরক।
কৃতজ্ঞতাঃ IslamHouse.

Share this Post
Scroll to Top