প্রসঙ্গঃ ক্রিকেট মাঠে সেঞ্চুরী করে সেজদা দেয়া

প্রসঙ্গঃ ক্রিকেট মাঠে সেঞ্চুরী করে সেজদা দেয়া
————————————-
ইসলামি শরিয়ত বলে, যেকোনো ভাল কাজ শুরু করবে আল্লাহর
নামে৷ একইভাবে যেকোনো কাজের প্রত্যাশিত ও সুন্দর
সমাপ্তির পর একজন মু’মিন হিসেবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়
করবে৷ এই কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ মুখে “আলহামদু লিল্লাহ” বলেও
হতে পারে৷ অন্তর থেকেও হতে পারে৷ কৃতজ্ঞতা স্বরূপ
নফল নামাজও পড়া যেতে পারে৷ কিংবা সিজদাহ করেও হতে পারে।
.
.
এই মূলনীতি অনুসারে বলা হয়-
কোনো না-জায়েয তথা হারাম কাজের শুরুতে “বিসমিল্লাহ” বলা
যাবে না৷ যেমন- চোর চুরি করার আগে৷ ডাকাত ডাকাতি করার
আগে৷ ইত্যাদি৷
.
হারাম বা নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্রে “আল্লাহর নামে শুরু করলাম” বা
“বিসমিল্লাহ” বলতে নিষেধ কারার কারণ হলো, এতে করে
ধর্মকে অবজ্ঞা করা হয়৷ ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়৷
শরিয়তে ইসলামি’র হুকুম-আহকামকে হালকা জ্ঞান করা হয়৷ ইসলামি
পরিভাষায় এটাকে বলে “ইস্তিখফাফ বিদ-দ্বীন”৷
.
.
তাই কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ কাজের প্রত্যাশিত সমাপ্তি হলে
সেক্ষেত্রেও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কিছু নেই৷
আল্লাহর অবাধ্য হয়ে এবং তার নাফরমানি করে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করা : এটা এক প্রকার তামাশা৷ আল্লাহ্র সাথে বিদ্রুপ করার নামান্তর৷
.
যেমন- মদ্যপায়ি ব্যক্তি তৃপ্তিভরে মদ্যপান শেষ করে কিংবা
কোনো যিনাকারি অপকর্মের শেষে বলল, “আলহামদু
লিল্লাহ” (নাউজুবিল্লাহ)৷ অথবা ফেসবুকের কমেণ্ট বক্সে “ইন-
আ-রিলেশোনশীপ-উইথ-অমুক” এর ক্ষেত্রে
“আলহামদুলিল্লাহ” বলতে ঝাপিয়ে পড়া। অর্থাৎ, এক্ষেত্রেও
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কিছু নেই৷
.
কেননা, এর দ্বারাও ইস্তেখফাফ বিদ-দ্বীন বা দ্বিনের সাথে তামাশা
করা হয়৷ বরং আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে তার দাসত্বকে
মেনে নিয়ে হারাম কাজ করার কারণে তওবা করা উচিত৷ নিজের কৃত
পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া উচিত৷
এবার আসি মূল কথায়-
———————
.
.
খেলা-ধুলা সম্পূর্ণ হারাম, খেলা-ধুলা জায়েজ নেই৷ এটা এক প্রকার
জুয়া৷ অতএব, জুয়া খেলায় সফলতা অর্জন করে সেজদা দেয়া
দ্বীন ইসলামিকে “অবজ্ঞা” করারই নামান্তর৷
.
এখন আশরাফুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অথবা পাকিস্তানের খেলোয়ররা
সেঞ্চুরী করে সেজদা দিলে সেটাতে পুণ্যের কিছু নেই৷
হয়তো কেউ প্রশ্ন করতে পারেন-
.
তারা তো ধর্মীয় অনুভূতি এবং আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
থেকেই এই সেজদা দিয়ে থাকে!
.
উত্তর সহজ- তারা অজ্ঞতা বশতঃ এমনটি করে থাকে৷ যেমন-
চোরও চুরি শেষ করে বুকে হাত রেখে স্বস্থির সাথে
বলে- “আল্লাহ! আলহামদু লিল্লাহ!”
বিনিত অনুরোধ-
.
ক্রিকেটসহ যেকোনো বিনোদনকে আপন স্থানেই রাখুন৷
যুক্তি দিয়ে সেটাকে ধর্মের প্রলেপ দেয়া থেকে বিরত
থাকুন৷ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিংবা অন্যকোন খেলোয়ারের
সেঞ্চুরীর পর মাঠে সেজদা করাকে প্রশংসা করার কিছু নেই৷
বরং তা দ্বীন ইসলামের সাথে তামাশারই নামান্তর।

Share this Post