দুআ’তে সীমালঙ্ঘন কিভাবে হয়?

দুআ করার সময় সীমালংঘন ও অতিরঞ্জন যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।
আল্লাহ্‌ বলেন,
“তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, তিনি সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
♻দুয়াতে প্রায় ২০ রকমের সীমালঙ্ঘন হতে পারেঃ
১/ শির্কযুক্ত বা শির্ক মূলক দুয়া করা
২/ শরিয়ত যা হবে বলে, তা না হতে দুয়া করা- যেমন হে আল্লাহ্‌ তুমি আমাকে মৃত্যু দিও না, কাফেরকে আযাব দিও না ইত্যাদি।
৩/ শরিয়ত যা হবে না বলে, তা হতে দুয়া করা, যেমন বলা যে আমাকে চিরঞ্জীব কর, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, কাফেরকে ক্ষমা কর ইত্যাদি।
৪/ জ্ঞান ও বিবেকে যা হওয়া সম্ভব, তা না হতে দুয়া করা।
৫/ জ্ঞান ও বিবেকে যা হওয়া অসম্ভব, তা হতে দুয়া করা। যেমন হে আল্লাহ্‌ আমি জেন একই সময়ে দুই জায়গায় উপস্থিত হতে পারি।
৬/ সাধারণতঃ যা ঘটা অসম্ভব তার জন্য দুয়া করা, যেমন হে আল্লাহ্‌ আমাকে পাখির মত উড়ার ক্ষমতা দাও! আমাকে সোনার ডিম পাড়া হাঁস দাও!
৭/ শরিয়ত এমনিতেই যা হবে না বলে নির্ধারিত বা শ্রুত তা পুনরায় না হওয়ার জন্য দুয়া করা। যেমন, হে আল্লাহ্‌ কাফেরদের জান্নাত দিও না! শরিয়তে কাফেরদের জন্য জান্নাত এমনিতেই হারাম করা তার জন্য আবার দুয়া করা মানে সীমালঙ্ঘন।
৮/ শরিয়তে যা হবে শ্রুত বা নির্ধারিত তার জন্য পুনরায় দুয়া করা, যেমন, হে আল্লাহ্‌ শহীদ কে তুমি জান্নাত দাও !
৯/ প্রার্থিত বিষয়কে আল্লাহর ইচ্ছায় লটকে দেওয়া, যেমন হে আল্লাহ্‌! যদি তুমি চাও তাহলে আমাকে ক্ষমা কর।
১০/ অন্যায়ভাবে কারও উপর দুয়া করা।
১১/ কোন হারাম বিষয় প্রার্থনা করা। হে আল্লাহ্‌ আমি যেন শেয়ার কেলেঙ্কারি করতে পারি!
১২/ প্রয়োজনের অধিক উচ্চস্বরে দুয়া করা।
১৩/ অবিনীতভাবে আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী না হয়ে দুয়া করা। অর্থাৎ এমন ভাব নিয়ে দুয়া করা যেন আল্লাহ্‌ দিলে দিল না দিলে নাই কিছু যায় আসে না।
১৪/ আল্লাহর সঠিক নাম ও গুণ ব্যতীত মনগড়া বানানো নাম ও গুন ধরে দুয়া করা। যেমন হে খোদা তা’আলা বলা!
১৫/ যা বান্দার জন্য উপযুক্ত নয় তা চাওয়া, যেমন নবী বা ফেরেশতা হতে চাওয়া।
১৬/ অপ্রয়োজনীয় লম্বা দুয়া করা। যেমন একাধিক ভাষায় দুয়া করা। একই দুয়া বাংলায় আবার ইংরেজিতে। আরবি + মাতৃভাষায় দুয়া করা ভিন্ন বিষয়।
১৭/ ছন্দ মিলিয়ে দুয়া করা
১৮/ অকান্নায় ইচ্ছাকৃত ভাবে হো হো করে উচ্চ শব্দে দুয়া করা।
১৯/ নিয়মিত, নির্দিষ্ট প্রকার, নির্দিষ্ট রূপে, নির্দিষ্ট স্থানে ও কালে নির্দিষ্ট দুয়া করা যা কুরআন সুন্নাহয় প্রমাণিত নয়। যেমন, সালাত শেষে সকলে সম্মিলিত মুনাজাত, তারাবী সালাতের শেষে নির্দিষ্ট মুনাজাত যা আমাদের দেশে নির্দিষ্ট করে পড়া হয়।
২০/ গানের মত লম্বা সুর ললিত কণ্ঠে দুয়া করা। … ইত্যাদি।
সূত্রঃ সহিহ দুআ ঝাড়ফুঁক ও যিকর – আব্দুল হামীদ ফাইযী আল মাদানী।

Share this Post
Scroll to Top