জীবনে সুখী হওয়ার উপায়

*জীবনে সুখী হওয়ার উপায়।
??????????

উত্তম চরিত্র ও কোমলতা যাকে দেওয়া হয়েছে, তাকে অনেক বড় নেয়ামত দেওয়া হয়েছে। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনগণ সহজ-সরল এবং বিনয়ী ও নম্র হয়। ঠিক যেন লাগাম দেওয়া উটের মতো, তাকে টানা হলে চলতে শুরু করে এবং পাথরের উপরে বসতে ইংগিত করলে বসে যায়।” সহীহুল জামিঃ ৬৬৬৯।
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “মহান আল্লাহ মুত্তাক্বী (আল্লাহভীরু), প্রশস্ত অন্তরের অধিকারী ও আত্মগোপনকারী বান্দাকে ভালোবাসেন।” সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২১।
মানুষ সবচাইতে বেশি কষ্ট পায় তার নিজের নফসের কারণে, তার অন্তরের ব্যাধি সমূহ যেমন রিয়া, আল্লাহর উপর ভরসা না করা, লোভ, হিংসা, অহংকার, ক্রোধ ইত্যাদি কারণে। পক্ষান্তরে যার হৃদয় ও চরিত্র যত সুন্দর ও কোমল হবে, সে তত বেশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবে এবং মানুষ তার কাছ থেকে তত বেশি উপকৃত হবে।
.
অন্তর নরম করার কিছু আমল
(১) একমনে ক্বুরআন তেলাওয়াত করা ও অর্থসহ বুঝে পড়া।
(২) ক্বারীদের ক্বুরআন তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা।
(৩) জামাতে নামায পড়ার জন্যে আগে আগে মসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করা। এ সময় সুন্নত সালাত পড়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা বা ক্বুরান তেলাওয়াত করা।
(৪) সৎ ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
(৫) ক্বুরান ও সুন্নাহর আলেমদের বই-পুস্তক পড়া ও ওয়াজ-লেকচার শোনা।
(৬) বয়ষ্ক, দুর্বল ও অসুস্থ রোগীদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের তুলনায় আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন এই চিন্তা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
(৭) দ্বীনি মজলিসে বসা।
(৮) আল্লাহর নেয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও তার জন্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
(৯) আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যে ঘৃণা করা।
(১০) পাপী ও নির্বোধ লোকদের বর্জন করা। অবশ্য দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে মেশা যাবে।
(১১) বিদাত ব্যক্তি বা আলিমদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের সাথে তর্ক না করা।
(১২) ক্বুরানের সুরা বা আয়াত মুখস্থ করা।
(১৩) সর্বদা আল্লাহকে স্বরণ রাখা।
(১৪) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী ও হাদীসগুলো পড়া, সেইগুলো নিয়ে আলোচনা করা।
(১৫) নির্জনে আল্লাহকে স্বরণ করা এবং নিজের পাপের জন্যে কান্নাকাটি করা।
(১৬) অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।
(১৭) বাবা-মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের প্রয়োজন পূরণ করা।
(১৮) মুসলমানদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ বর্জন করা এবং সবসময় তাদের প্রতি সদয় থাকা, তাদের জন্য কল্যানকামী হওয়া।
(১৯) পাপ ও পাপের আসর বর্জন করা।
(২০) গীবত থেকে দূরে থাকা।
(২১) মৃত্যুকে স্বরণ করা এবং পরকালের আশায় জীবন কাটানো।
(২২) দুনিয়া নিয়ে মত্ত না থাকা, পরকালকেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানানো।
(২৩) মানুষকে খুশি করার চাইতে আল্লাহকে খুশি করাকে প্রাধান্য দেওয়া।
(২৪) ক্ষুদার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া।
(২৫) দান করা।
(২৬) অশ্লীল কথা না বলা, যারা বলে তাদেরকে বর্জন করা।
(২৭) তাক্বদীরকে মেনে নেওয়া, এবং আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকা।
(২৮) আল্লাহর উপর ভরসা করা।
(২৯) আল্লাহর উপর, পরকালের উপর বিশ্বাসকে দৃঢ় করা।
(৩০) বিপদগ্রস্থ ও অসহায় মুসলিমদের জন্যে দুয়া করা।

?????

Share this Post
Scroll to Top