জীবনে সুখী হওয়ার উপায়

জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্বঃ ১-৫)
____________________________________
জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্ব-১)
দুনিয়ার প্রতিটা মানুষ সুখী হতে চায়, তবে একেক জনের সুখী হওয়ার পদ্ধতি একেক রকম। কেউ সেই সুখের দেখা পায়,কেউ পায়না। অনেকে মনে করেন, মনের মানুষকে বিয়ে করতে পারলেই তিনিও সুখী হবেন। এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়, তাদেরকে কষ্ট দিয়ে, নিজে কত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে প্রেমিক/প্রেমিকাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ে করার পর তাদের মনে হয়েছে, জীবনের সবচাইতে বড় ভুল কাজটা করে ফেলেছেম, যা শোধরানোর কোন সুযোগ নেই। অনেকে স্বপ্নের চাকরী, অর্থ সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি, সুন্দরী নারী খুজে বেড়ায়। যখন সেটাকে পেয়ে যায়, অন্ধকারে সম্পদ মনে করে সাপ হাতে তুলে নেওয়ার মতো মনে হয়। এভাবেই হয়তোবা আল্লাহ নাফরমান মানুষদেরকে দুনিয়াবী সামান্য আজাব ভোগ করান।
যাই হোক, জীবনে সুখী হওয়ার সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে, সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা এবং সুখে-দুঃখে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করা, তার উপরে ভরসা করা। আপনি আল্লাহকে স্মরণ করলে আল্লাহও আপনাকে স্মরণ করবেন, আপনার দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করে দিবেন বলে আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।” [সুরা রাদঃ ২৮।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আ’নহুমা বর্ণনা করেছেন। একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের (আরোহী জন্তুর) পিছনে ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “হে তরুণ ছেলে! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শেখিয়ে দিবো, তুমি আল্লাহকে সংরক্ষণ করবে তো, তিনি তোমাকে সংরক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহকে স্মরণ করলে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন তুমি সাহায্য চাইবে, শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোন উপকার করতে পারবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চায় তবে, আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ব্যতীত আর কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে।” তিরমিযীঃ ২৫১৬, হাদীসটি হাসান সহীহ।
তিরমিযী ছাড়া অন্য বর্ণনায় হাদীসটি এইভাবে বর্ণিত হয়েছে, “তুমি আল্লাহকে স্মরণ করবে, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। তুমি স্বচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করবেন। মনে রেখো, যা তুমি পেলে না, তা তোমার পাবার ছিল না। আর যা তুমি পেলে, তা তুমি না পেয়ে থাকতে না। আরো জেনে রাখো, ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে।”
মাদ্রাসার তুলনায় কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা পাপ কাজ বেশি করে। বেনামাযী, বেপর্দা, যিনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা, নাটক-সিনেমা, গান-বাজনা, চরিত্রহীনতার টিভি দেখা, গল্পের বই পড়া, মদ জুয়া ইত্যাদি ফাসেকী কাজগুলো কারা বেশি করে বলার প্রয়োজন পড়েনা। এর ফলে দেখবেন ক্যাম্পাসগুলোতে খুন-খারাবী, ধর্ষন, নারী নির্যাতন, প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে আত্মহত্যা এমন কাজ দিয়ে সেখানকার দুনিয়াটাকেই যেন তারা জাহান্নাম বানিয়ে ফেলছে।
আল্লাহকে কখন কিভাবে স্মরণ করতে হয়, কিভাবে তার কাছে দুয়া করতে হয় বা কি বলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয় জানার জন্য নীচের এই বইগুলো অবশ্যই সংগ্রহ করবেনঃ
(১) হিসনুল মুসলিম, (২) ১০০০ সুন্নত, (৩) শায়খ আব্দুল হা’মীদ ফাইজীর লিখিত সহীহ দুয়া ও ঝাড়ফুক শিক্ষা, (৪) রিয়াদুস সালেহীন (যিকর ও দুয়া অধ্যায়)।
আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন ও আমাদেরকে পাপাচার ও ফেতনা থেকে দূরে রাখুন, আমিন।
____________________________________
জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্ব-২)
(১) ধৈর্য্য ধরুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। মনে রাখবেন, কোন মানুষের বিপদ চিরস্থায়ী হয় না। আল্লাহ তার মুমিন বান্দাদেরকে ভালোবাসেন, সেইজন্য দুনিয়ার জীবনে সামান্য দুঃখ-কষ্ট দিয়ে তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করেন, যাতে করে তার বান্দারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে ডুবে থেকে পরকালকে ভুলে না যায়। সেইজন্য ভালো বা মন্দ, যা কিছু আমাদের উপরে আসে, তা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এবং আল্লাহর নির্ধারিত তাক্বদীর বা ভাগ্যের উপর সন্তুষ্ট থাকুন।
(২) আমার ভাগ্য খারাপ – এই কথা বলে কখনো হায়-হুতাশ করবেন না। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ যাকে ক্ষমা করে জান্নাতে দিবেন, তার ভাগ্য ভালো। আর আল্লাহ যার উপরে রাগান্বিত থাকবেন, যাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, সেই হচ্ছে প্রকৃত হতভাগা। আমরা কেউই জানি না, কার ভাগ্যে কি আছে। সুতরাং আমার ভাগ্য খারাপ বলে হতাশ হবেন না কিংবা, নিজেকে আমি বড় আল্লাহওয়ালা, জ্ঞানী লোক মনে করে শয়তানের ধোকায় পড়বেন না। বরং বিনীত হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশা নিয়ে নেক আমল করে যান এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
(৩) নিজের পরিবারের লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন, তাদের খারাপ আচরণগুলো উপেক্ষা করুন। কোন মানুষই পারফেক্ট নয়, সুতরাং মানুষের দুই-একটা ভুল বা অন্যায়ের কারণে তাকে ঘৃণা করা শুরু করবেন না।
(৪) আলেম-উলামা, সৎ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করুন। যারা সৎ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত তারা আলেমদের লেখা বই পড়া কিংবা তাদের অডিও-ভিডিও শোনার মাধ্যমে তাদের প্রচারিত জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে পারেন।
(৫) চিন্তা করে দেখুন সিরিয়াতে সেই মায়ের কথা যে তার তিন সন্তান হারিয়েছে। বার্মাতে সেই বোনের কথা, যার পাচ বছরের মেয়ে তার মাকে ধর্ষণ করতে বাধা দিয়েছিলো বলে তাকে কেটে টুকরা করে ফেলা হয়েছে। অথবা সৌদি আরবে সেই ভাইয়ের কথা, যে গাড়ি দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তেই তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়েছে। সে তুলনায় আল্লাহ আমাদেরকে কত নিরাপদ ও শান্তিতে রেখেছেন! আলহা’মদুলিল্লাহ। বিপদগ্রস্থ ও অসহায় মুসলিম ভাই ও বোনদের জন্য দুয়া করুন। না পাওয়া জিনিসগুলোর জন্য নাফরমানী নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর জন্য শুকরিয়া আদায় করুন।
(৬) শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময়ে, নামাযের সিজদাতে কান্নাকাটি করে নিজের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য ফরিয়াদ করুন।
(৭) গায়ের মাহরামদের দিকে দৃষ্টিপাত করা, তাদের সাথে কথা বলা, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা থেকে ফিরে আসুন। চাহিদা থাকলে বিয়ে করুন, আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, সেই পথ অনুসরণ করুন। সামর্থ্য না থাকলে বা আল্লাহর বিশেষ ইচ্ছায় কোন বাধার সম্মুখীন হলে ধৈর্য্য ধরুন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। মনে রাখবেন, পুরুষের জন্য এই দুনিয়াতে সবচাইতে মূল্যবাদ সম্পদ হচ্ছে নেককার স্ত্রী। আবার এই নারী জাতির ফিতনাহ পুরুষের জন্য সবচাইতে বড় ক্ষতির কারণ। সময় ও সুযোগকে কাজে লাগান। মনভুলানো, আকর্ষণীয় ফিতনার দ্বারা নিজেকে ক্ষতিগ্রস্থ করা থেকে বাচার চেষ্টা করুন।
(৮) দ্বীনের ব্যপারে কারো সাথে তর্ক কিংবা ঝগড়া করবেন না। আপনি সঠিক কথা বলুন, যার মাঝে কল্যাণ আছে, আল্লাহ তাকে হেদায়েত করবেন। যে ব্যক্তি হিংসা, জিদ, মূর্খতার কারণে সত্যকে প্রত্যখ্যান করে, তার সাথে তর্ক করে নিজের আত্মার প্রতি জুলুম করবেন না।
(৯) যারা ফিতনাহ ও পাপাচারের কথা বলে, তাদের কথার দিকে লক্ষ্য করবেন না। তাদেরকে উপদেশ দিন। উপদেশ গ্রহণ না করলে উত্তমভাবে তাদেরকে বর্জন করুন।
(১০) ক্বুরআনের সাথে আপনার সম্পর্ক আরো সুন্দর, মজবুত ও প্রাণবন্ত করুন। আর সেটা হচ্ছে ক্বুরআন পড়া, শোনা, বুঝা ও তার উপর আমল করার মাধ্যমে। আল্লাহর যিকির দ্বারা মানুষের অন্তর সমূহ শান্তি পায়।
____________________________________
জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্ব-৩)
(১) লোকদের কাছ থেকে কিছু আশা করবেন না যে, অমুক আমার এই কাজটা করে দিবে, অমুক আমার এই উপকার করবে, অমুক আমার সাথে ভালো আচরণ করবে ইত্যাদি, মানুষের কাছ থেকে এমন আশা করবেন না। উল্লেখ্য, জায়েজ কাজে নারীরা তাদের বরের কাছে, সন্তানেরা তাদের পিতা-মাতার কাছে কিছু চাওয়া বা আবদার করা দোষণীয় নয়, কারণ তাদের কাছে চাওয়ার ‘হক্ক’ বা অধিকার মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমোদিত এবং নির্ধারিত।
(২) আল্লাহ কিংবা দ্বীনের কাজের ব্যাপারে লোকদের কথা শুনবেন না। অধিকাংশ মানুষ প্রবৃত্তি অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সুতরাং তারা আপনাকে সৎ উপদেশ দিবেনা, বরং আপনার ভালো কাজে বাধা সৃষ্টি করবে।
(৩) ভালো কাজে মানুষের সমালোচনাকে ভয় করবেন না। লোকেরা অসন্তুষ্ট হবে মনে করে ভালো কাজ ত্যাগ করলে কিংবা তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে খারাপ কাজে লিপ্ত হলে, কেয়ামতের দিন এর শাস্তি হিসেবে জাহান্নামে গেলে দুনিয়ার কোন মানুষ আপনার কোন উপকার করতে এগিয়ে আসবেনা।
(৪) কি করলে মানুষ খুশি হবে এটা না ভেবে, আল্লাহ তাআ’লা কোন কাজটা পছন্দ করেন, সেটাকে প্রাধান্য দিন। আমাদের একমাত্র রব্ব মহান আল্লাহ, তিনিই আমাদের পালনকর্তা, রিযিকদাতা। সুতরাং মানুষকে নয়, সর্বদা আল্লাহকে খুশি করার চেষ্টা করতে হবে।
(৫) অধিকাংশ মানুষ হচ্ছে অকৃতজ্ঞ। সুতরাং, মানুষের উপকার করে তার কাছ থেকে কোন প্রতিদান আশা করবেন না। বরং, এর প্রতিদান শুধুমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আশা করুন।
____________________________________
জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্ব-৪)
(১) অন্তর থেকে গান ডিলিট করে অন্তরকে কুরআনের প্রতি মুহব্বত দিয়ে পূর্ণ করুন।
(২) গল্পের বই না পড়ে অন্তর নরমকারী দ্বীনি বই-পুস্তক যেমন রিয়াদুস সালেহীন, পরকালের পাথেয়, সুখের সন্ধান, এধরণের দ্বীনি কিতাব পড়ুন।
(৩) মন খারাপ হলে বোকার মতো গান না শুনে কিংবা সিগারেটের দুর্গন্ধযুক্ত ধোয়া দিয়ে পেট ভর্তি না করে কুরআনের ছোট একটা সুরা যেমন সুরা দাহার/সুরা ইনসান, সুরা ক্বিয়ামাহ, সুরা হিজর এর তেলাওয়াত শুনুন, সাথে সাথে তর্জমা ও তাফসীর শিখে নিন। ক্বুরআনকে আপনার হৃদয়ের বসন্ত বানিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করুন।
(৪) বাজে আড্ডা, গীবতের আসর, অত্যাধিক হাসি-ঠাট্টা এবং হাহা হিহি করা হয় এধরণের লোকদের সমাবেশি বর্জন করুন, কারণ এইগুলো অন্তরকে মেরে ফেলে।
(৫) বয়ষ্ক, দরিদ্র, অসহায় ও পীড়িত লোকদের সাথে উত্তম ও নম্র আচরণ করুন।
(৬) জনপ্রিয়তা লোভী সেলেব্রিটি, নিজেকে প্রকাশ করতে চায় এমন বক্তা ও লিখকদের বর্জন করুন। এরা দ্বীন প্রচারের নামে মানুষের অন্তরে বিভ্রান্তি ও অসুস্থ অনুভূতি ইনজেক্ট করে।
(৭) তাক্বদীরকে মেনে নিন, যা পেয়েছেন তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। আপনার প্রেমিকা অন্যজনের ঘর করবে, এটা আল্লাহর লিখা। সুতরাং, আল্লাহর সিদ্ধান্ত হাসিমুখে মেনে নিয়ে শয়তানী ওয়াসওয়াসা পরিত্যাগ করুন। অতীতের হারাম কাজের জন্যে তোওবা করুন, নিজের পাপকে ঢেকে রাখুন, বর্তমানকে সংশোধন করে নেক আমল করার জন্য মনোযোগী হন। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা হচ্ছে প্রকৃত সুখ, চিরস্থায়ী শান্তি লাভের উপায়। যে ব্যক্তি তাক্বদীরের প্রতি দৃঢ় ঈমান আনে এবং আল্লাহর সমস্ত সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়, সেই সবচাইতে সুখী।
____________________________________
জীবনে সুখী হওয়ার উপায় (পর্ব-৫)
শিরোনামঃ অন্তরের ব্যাধি, দুঃশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতার চিকিৎসা।
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম রহি’মাহুল্লাহ রচিত অসাধারণ সীরাত গ্রন্থ “যাদুল মাআ’দ”-এ নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে অন্তরের ব্যাধি, দুঃশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতার জন্য চিকিৎসা হিসেবে মোট পনের (১৫) প্রকার রূহানী ঔষধের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। নীচে তা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হলো।
(১) তাওহীদে রুবুবীয়াতের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনা।
(২) তাওহীদে উলুহীয়াতের উপর পূর্ণ ঈমান আনা এবং তা বাস্তবায়ন করা।
(৩) তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
(৪) আল্লাহ তাআ’লা স্বীয় বান্দার উপর জুলুম করা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র, দৃঢ়তার সাথে এই ঘোষণা দেওয়া এবং কোন কারণ ছাড়াই বান্দাকে শাস্তি দেওয়া থেকে আল্লাহর মহান সত্ত্বার পবিত্রতা ঘোষণা করা।
(৫) বান্দা নিজেকে জালেম (অত্যাচারী/গুনাহগার) বলে স্বীকার করা।
(৬) আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় বস্তুর মাধ্যমে তথা আল্লাহ তাআ’লার আসমাউল হুসনা এবং মর্যাদাপূর্ণ, পূর্ণ সিফাত (গুণাবলীর) উসীলা দিয়ে তাঁর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআ’লার আসমা ও সিফাতগুলো যে সমস্ত অর্থ বহন করে, তার মধ্যে সর্বাধিক ব্যাপক অর্থবোধক নাম হচ্ছেঃ الحي القيوم আল-হা’ইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, অর্থঃ চিরঞ্জীব এবং সকল বস্তুর প্রতিষ্ঠাতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিপালনকারী।
(৭) শুধুমাত্র খালিক্ব (আল্লাহর) কাছেই সাহায্য চাওয়া এবং মাখলুক্ব (আল্লাহর কোন সৃষ্টির) অনুগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা।
(৮) শুধুমাত্র আল্লাহ তাআ’লার কাছেই (সাহায্য, প্রতিদান, নেয়ামত) আশা করা।
(৯) আল্লাহ তাআ’লার উপর পূর্ণ ভরসা করা, তাঁর কাছেই সব কিছু সোপর্দ করা এবং বান্দা কর্তৃক এই কথার স্বীকারোক্তি প্রদান করা যে, আল্লাহ তাআ’লা তাঁর কপাল ধরে আছেন, অর্থাৎ তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তার ভাগ্যকে ঘুরিয়ে থাকেন। বান্দার ব্যাপারে আল্লাহর হুকুমই কার্যকর হয় এবং আল্লাহর ফয়সালা ইনসাফ পূর্ণ।
(১০) জীব-জন্তু যেমন দুনিয়ার বাগানে বিচরণ করে, বান্দার উচিত ঠিক তেমনি ক্বুরআনের বাগানে বিচরণ করা, শুবুহাত ও শাহওয়াতের (সন্দেহ ও কুপ্রবৃত্তির) অন্ধকারে ক্বুরআন থেকে হিদায়াতের আলো গ্রহণ করা। কোন কিছু হারিয়ে গেলে কিংবা বিপদে পতিত হলে ক্বুরআনের মাধ্যমে প্রশান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে এবং ধৈর্য ধারণ করবে। এর মাধ্যমেই তার অন্তরের যাবতীয় ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করবে, দুশ্চিন্তা দূর হবে, বিষণ্ণতা ও হতাশা অপসারিত হবে।
(১১) আল্লাহর দরবারে সর্বদা ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে।
(১২) আল্লাহর কাছে তাওবা (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন) করবে।
(১৩) আল্লাহর পথে জিহাদ করবে।
(১৪) যথাযথ গুরুত্ব ও প্রবল আগ্রহ নিয়ে সালাত কায়েম করবে।
(১৫) বিপদাপদ ও মসীবতের সময় বান্দা নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং বিপদাপদ সংক্রান্ত সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই সোপর্দ করবে।
উৎসঃ- যাদুল মাআ’দ। বইটির অনুবাদ করেছেনঃ শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী হা’ফিজাহুল্লাহ, তাওহীদ প্রকাশনী।

 

>>>কৃতজ্ঞতাঃ- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও<<<

Share this Post
Scroll to Top