কুরআন তিলাওয়াত

কুরআন তিলাওয়াত

আমাদের দেশেও মসজিদসমূহে রমযান মাসে তারাবীহ সালাত আয়োজন করা হয়ে থাকে। কুরঅানের দ্রুতপঠনের প্রতিযোগিতা যারা সন্তুষ্ট চিত্তে উপভোগ করেন; তাদের নিম্নোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ।

কুরআন তিলাওয়াত

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ [٢:١٢١]

আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরাহ বাক্বারাহ ২:১২১)

وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَىٰ مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنزِيلًا [١٧:١٠٦]

আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন সহ পৃথক পৃথকভাবে পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে লোকদের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথ ভাবে অবতীর্ণ করেছি। (সূরাহ ইসরা ১৭:১০৬)

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا [٧٣:٤]

এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরাহ মুযযাম্মিল ৭৩: ৩)

 অধ্যায়: তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদ: তোমরা তোমাদের কথা চুপেচাপেই বল আর উচ্চৈঃস্বরেই বল, তিনি (মানুষের) অন্তরের গোপন কথা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত (ত্বহা ২০/১০৩)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫২৭

ইসহাক (র) ….. আবূ হুরায়রা h থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভাল আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের নয়। আবূ হুরায়রা h ছাড়া অন্যরা “يَجْهَرُ بِهِ “ ‘উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে না’ কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস।  তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫২৭] ( আ.প্র. ৭০০৮, ই.ফা. ৭০১৯)

 অধ্যায়: তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদ: নাবী (ﷺ)এর বাণীঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি জান্নাতে সম্মানিত পূতপবিত্র কাতিব ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৪৪

ইব্রাহীম ইবনু হামযা (র) ….. আবূ হুরায়রা h থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ উচ্চস্বরে মধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি যেরূপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, অন্য কিছুর প্রতি সেরূপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৪৪, ৫০২৩] ( আ.প্র. ৭০২৪, ই.ফা. ৭০৩৫)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৪৬

আবূ নুআয়ম (র) ….. বার‘আ h থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে এশার স্বলাতে সূরা { وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ } ত্বীন পড়তে শুনেছি। তাঁর চেয়ে সুন্দর স্বর কিংবা তাঁর চেয়ে সুন্দর কিরাআত আর কারো থেকে শুনিনি।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৪৬, ৭৬৭] ( আ.প্র. ৭০২৬, ই.ফা. ৭০৩৭)

 অধ্যায়: তাওয়াহ্‌য়ীদ | অনুচ্ছেদ: পাপী ও মুনাফিকের কিরাআত, তাদের স্বর ও তাদের কিরাআত কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৬০

হুদবা ইবনু খালিদ (র) ….. আবূ মূসা আশ’আরী h থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের উদাহরণ উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উত্তম এবং ঘ্রাণও হৃদয়গ্রাহী। আর যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ যেন খেজুর। এটি খেতে সাদ বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী গুনাহ্গার ব্যক্তিটি সুগন্ধি ঘামের তুল্য। এর ঘ্রাণ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি গুনাহ্গার হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত এবং এর কোন সুঘ্রাণও নেই।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৬০, ৫০২০] ( আ.প্র. ৭০৩৯, ই.ফা. ৭০৫০)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৭৫৬২

আবূ নুমান (র) ….. আবূ সাঈদ খুদরী h থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্বাঞ্চল থেকে একদল লোকের অভ্যুদয় ঘটবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, তবে তাদের এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়া যাবে, যেভাবে শিকার (ধনুক) থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় না আসে। বলা হল, তাদের আলামত কি? তিনি বললেন, তাদের আলামত হল মাথা মুন্ডানো।

তাহক্বীক:: মুতাওয়াতির হাদিস, মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৭৫৬২] ( আ.প্র. ৭০৪১, ই.ফা. ৭০৫২)

অধ্যায়: আলকুরআনের ফাযীলাতসমূহ | অনুচ্ছেদ: আত্তার্জী’ (ছন্দময় সুমুধুর সুরে পাঠ করা)

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৫০৪৭

আদাম ইবনু আবূ ইয়াস h…… আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফ্ফাল h বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উষ্ট্রির পিঠে অথবা উটের পিঠে আরোহণ করা অবস্থায় যখন উষ্ট্রটি চলছিল, তখন আমি তিলাওয়াত করতে দেখেছি। তিনি “সূরা ফাতহ” এবং “সূরা ফাতহ’র অংশ বিশেষ অত্যন্ত নরম এবং মধুর ছন্দোময় সুরে পাঠ করছিলেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৫০৪৭, ৪২৮১] ( আ.প্রঃ ৪৬৭৪, ই.ফা. ৪৬৭৮)

অধ্যায়: আলকুরআনের ফাযীলাতসমূহ | অনুচ্ছেদ: সুস্পষ্ট ও ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করা

সহীহুল বুখারী :: হাদিস : ৫০৪৪

কুতায়বা ইবনু সাঈদ (র)….. হযরত ইবনু আব্বাস h থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ “হে নবী! আপনার জিহ্বাকে তাড়াতাড়ি মুখস্ত করার জন্য নাড়াবেন না” (কিয়ামাহঃ ৭৫ : ১৬) । আল্লাহর এই কালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই হয়রত জিবরাঈল n ওয়াহ্‌য়ী নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)এর নিকট আসতেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খুব তাড়াতাড়ি জিহবা এবং ঠোঁট নাড়াতেন এবং তার জন্য খুব কষ্টের ব্যাপার হত। আর এ অবস্থা সহজেই অন্য একজন অনুমান করতে পারত। সুতরাং এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতা’আলা এই আয়াত নাযলি করেন। “আমি কিয়ামত দিবসের কসম করছি, হে নবী! তাড়াতাড়ি ওয়াহ্‌য়ী মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহবা নাড়াবেন না। এ মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও ফাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। যখন আমি তা পাঠ করিতে থাকি, তখন আপনি সে পাঠকে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। পরে এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব”। সুতরাং যখন জিবরাঈল n পাঠ করেন আপনি তার অনুসরণ করুন। এরপর থেকে যখন জিবরাঈল n বলে যেতেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা নীরবে শুনতেন। যখন তিনি চলে যেতেন, আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন।

তাহক্বীক:: মারফু হাদিস। তাখরীজ :: [ বুখারীঃ তা.পা ৫০৪৪, ৫] ( আ.প্রঃ ৪৬৭১, ই.ফা. ৪৭৭৫)

 

>>>>>Special Courtesy:- dararqam.com<<<<<

Share this Post
Scroll to Top