একটি সতর্কতা

একটি সতর্কতা

জাবির আব্দুল্লাহ

জামাতের সময় মসজিদে মোবাইলের রিংটোন বেজে ওঠা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো খোদ নামাযী ব্যক্তির অবহেলা বা ভুলোমনের কারণে, কখনো যিনি ফোন করছেন তার অসচেতনতার কারণে।

মুসল্লীগণ বিরক্ত হচ্ছেন, আর যার ফোন বেজে উঠছে তিনি লজ্জায় পড়ছেন। এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে, আজ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা করছি।

সাধারণত এমন হয় যে, এক মসজিদে এশার জামাত ৭:৩০ তো আরেক মসজিদে ৭:১৫। যিনি আগে নামায থেকে ফারেগ হয়েছেন তিনি নামায শেষ করে ভাবেন যে, জামাত তো শেষ সুতরাং এখন ফোন করা যায়। সে মতে তিনি ফোন করলেন এমন সময় যখন ৭:৩০-এর জামাত দাঁড়িয়েছে; আর ওদিকে যার কাছে ফোন করা হচ্ছে তিনি মোবাইল সাইলেন্ট করতে ভুলে গেছেন। ফলে তিনি বিব্রত হলেন এবং নামায শেষে কিছু মানুষ বলে বসল, ‘কোন বে-নামাযী রে জামাতের সময় ফোন করল?’

সবাই একটু সচেতন হলে এই বিপত্তি ঘটে না। মসজিদভেদে জামাতের সময় সাধারণত ১৫ মিনিটের পার্থক্য হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে ফোন করলে এ সমস্যা থেকে বাঁচা যায়। উপরোল্লেখিত ছুরতে ৭টা ১০ থেকে ৭টা ৫০ পর্যন্ত যদি ফোন না করা হয় তাহলে মোটামুটি এ সমস্যা থেকে বাঁচা যায়। সাথে সাথে যদি জামাতের আগে মোবাইল সাইলেন্ট করাটা অভ্যাসে পরিণত করা হয় সেটা সবচেয়ে ভাল। কারণ, নামাযী ব্যক্তির কাছে তো এমন অনেক মানুষও ফোন করে, যার নামাযের সময়ের ব্যাপারে সঠিক ধারণা নেই।

আর মসজিদে কারো রিংটোন বেজে উঠলে ধৈর্য ধরা এবং অসংগত কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। আমার অসংগত কথা কারো মসজিদে না আসার কারণ হতে পারে। আবার নামাযী ব্যক্তিকে -হোক তার অসচেতনতার কারণে- বে-নামাযী বলে গালি দেয়া হয়ে যাচ্ছে। যিনি নামায পড়েন না তাকেও তো বে-নামাযী বলে গালি দেয়া ঠিক নয়। আল্লাহ আমলের তাওফিক দিন।

Share this Post
Scroll to Top